🏫 প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা
২০২৬
তারিখ: ০৮ মার্চ ২০২৬ | প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় | সারক
নং: ৩৮.০১.০০০০.১০৭.৩৩.০০১.২৫.-৮৯০
bdprimaryschools.blogspot.com
📌
ভূমিকা
বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
মন্ত্রণালয় ০৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে 'প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬' জারি করেছে।
এই নীতিমালাটি আগের পুরোনো নীতিমালা রহিত করে নতুনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে।
এই পোস্টে আমরা নীতিমালার সকল গুরুত্বপূর্ণ
দিক সহজ ভাষায় তুলে ধরব — যা শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থী সকলের জন্যই প্রয়োজনীয়।
|
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: এই নীতিমালাটি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ থেকেই কার্যকর হবে। |
📚
পরীক্ষার বিষয়, পূর্ণমান ও সময়
|
নং |
বিষয় |
পূর্ণমান |
সময় |
|
১ |
বাংলা |
১০০ |
২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট |
|
২ |
ইংরেজি |
১০০ |
২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট |
|
৩ |
প্রাথমিক গণিত |
১০০ |
২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট |
|
৪ |
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (৫০)
+ প্রাথমিক বিজ্ঞান (৫০) |
১০০ |
২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট |
✅ প্রতিটি বিষয়ে বৃত্তি পাওয়ার
জন্য ন্যূনতম শতকরা ৪০ নম্বর পেতে হবে।
✅ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট দেওয়া হবে।
✅ সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের
বৃত্তি প্রদান করা হবে।
🎖️
বৃত্তির ধরন
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় দুই ধরনের
বৃত্তি প্রদান করা হয়:
ক) ট্যালেন্টপুল
বৃত্তি
উপজেলা/থানাভিত্তিক সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত
শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। মোট ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ৮০% সরকারি এবং ২০% বেসরকারি বিদ্যালয়ের
জন্য বরাদ্দ।
খ) সাধারণ
বৃত্তি
ট্যালেন্টপুলের পরবর্তী মেধাক্রমানুসারে
শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। মোট সাধারণ বৃত্তির ৮০% সরকারি এবং ২০% বেসরকারি বিদ্যালয়ের
জন্য।
|
📝 উভয় ধরনের বৃত্তির
৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত। |
🏫
কারা পরীক্ষা দিতে পারবে
সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
অধ্যয়নরত ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তবে কিছু শর্ত মানতে
হবে:
1. চতুর্থ শ্রেণির সকল প্রান্তিকের সামষ্টিক মূল্যায়নে শতকরা
সর্বোচ্চ ৪০ (চল্লিশ) জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
2. প্রাপ্ত মোট নম্বর একই হওয়ার কারণে সংখ্যা ৪০% এর বেশি হলে
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলা, প্রাথমিক গণিত, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক
বিজ্ঞান বিষয়ে বেশি নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অগ্রাধিকার পাবে।
3. বেসরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রণীত শিক্ষাক্রম অনুসরণ করতে হবে এবং IPEMIS-এ সক্রিয় থাকতে
হবে।
4. সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।
5. কোনো শিক্ষার্থী একবার কোনো বিদ্যালয় থেকে ডিআর-ভুক্ত হলে
দ্বিতীয়বার ডিআর-ভুক্ত করা যাবে না।
⚖️ সমান নম্বরের
ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার
একাধিক শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত সর্বমোট
নম্বর একই হলে অগ্রাধিকার নির্ধারিত হবে এই ক্রমে:
|
ক্রম |
বিষয় |
|
১ম |
বাংলায় বেশি নম্বরপ্রাপ্ত |
|
২য় |
প্রাথমিক গণিতে বেশি নম্বরপ্রাপ্ত |
|
৩য় |
ইংরেজিতে বেশি নম্বরপ্রাপ্ত |
|
৪র্থ |
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে বেশি
নম্বরপ্রাপ্ত |
|
৫ম |
প্রাথমিক বিজ্ঞানে বেশি নম্বরপ্রাপ্ত |
|
সবশেষ |
সকল বিষয়ে সমান হলে সকলকে বৃত্তি |
📋
পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলি
পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই এই নিয়মগুলো
মেনে চলতে হবে:
• প্রবেশপত্রসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত হতে
হবে — প্রবেশপত্র ছাড়া কেউ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।
• ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনা
যাবে না।
• উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠায় নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া
অন্য কিছু লেখা যাবে না।
• উত্তরপত্রে ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর থাকতে হবে — অন্যথায় উত্তরপত্র
বাতিল বলে গণ্য হবে।
• উত্তরপত্রের ভেতর বা বাইরে পরীক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা বা কোনো
সাংকেতিক চিহ্ন লেখা যাবে না।
• প্রদত্ত উত্তরপত্র ছাড়া টেবিল, স্কেল বা অন্য কোথাও পরীক্ষার্থী
কিছু লিখতে পারবে না।
• পরীক্ষা শেষে ইনভিজিলেটরের নিকট উত্তরপত্র জমা দিয়ে পরীক্ষার
হল ত্যাগ করতে হবে।
🚫
পরীক্ষা চলাকালীন নিষিদ্ধ আচরণ
• পরীক্ষার হলে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা যাবে না।
• প্রশ্নপত্র বা অন্য কোনো মাধ্যমে কিছু লিখে অন্য পরীক্ষার্থীর
সঙ্গে বিনিময় করা যাবে না।
• প্রশ্নপত্র ছাড়া অন্য কোনো কাগজপত্র বা অন্যের উত্তরপত্র দেখে
লেখা বা সহযোগিতা করা যাবে না।
• উত্তরপত্র ইনভিজিলেটরের নিকট দাখিল না করে উত্তরপত্রসহ পরীক্ষার
হল ত্যাগ করা যাবে না।
• কেন্দ্র কর্তৃক সরবরাহকৃত উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা পরিবর্তন বা বিনষ্ট
করা যাবে না।
🔢
বিষয় কোড
|
কোড |
বিষয় |
|
১ |
বাংলা |
|
২ |
ইংরেজি |
|
৩ |
প্রাথমিক গণিত |
|
৪ |
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক
বিজ্ঞান |
🔁
ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ
বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর কোনো
অভিভাবক পুনঃনিরীক্ষণের যোগ্যতা প্রদর্শন করতে পারলে আবেদন করতে পারবেন।
• ফলাফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
• প্রতিটি বিষয়ের জন্য পুনঃনিরীক্ষণ ফি ৩০০/- (তিনশত) টাকা।
• প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর জন্য ফলাফল প্রকাশের ৭ দিনের
মধ্যে আবেদন করা যাবে।
🏛️
পরীক্ষা পরিচালনাকারী কমিটিসমূহ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য
তিনটি স্তরে কমিটি গঠন করা হয়েছে:
|
কমিটি |
সভাপতি |
প্রধান দায়িত্ব |
|
জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি |
সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় |
নীতি নির্ধারণ, ফি নির্ধারণ,
বৃত্তি সংখ্যা নির্ধারণ |
|
নির্বাহী কমিটি |
মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা
অধিদপ্তর |
প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, উত্তরপত্র
মূল্যায়ন, ফলাফল প্রকাশ |
|
জেলা কমিটি |
জেলা প্রশাসক |
পরীক্ষা কেন্দ্র অনুমোদন, আইন-শৃঙ্খলা,
উত্তরপত্র প্রেরণ |
|
উপজেলা কমিটি |
উপজেলা নির্বাহী অফিসার |
IPEMIS ডিআর অনুমোদন, পরীক্ষা
কেন্দ্র নির্বাচন, প্রবেশপত্র বিতরণ |
👨🏫
শিক্ষকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
নীতিমালায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের
জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে:
• IPEMIS-এ সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের তথ্য (ডিআর) এন্ট্রি করতে হবে।
• নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ডিআর প্রস্তুত ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার
নিকট অগ্রায়ন করতে হবে।
• পরীক্ষার্থীদের তালিকা একবার অনুমোদনের পর কোনো তথ্য সংযোজন
বা সংশোধন করা যাবে না।
• ৮০ গ্রাম A4 কাগজে প্রবেশপত্র প্রিন্ট করে বিতরণের ব্যবস্থা
করতে হবে।
• পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।
📝
সংক্ষেপে মনে রাখুন
|
✅ পরীক্ষা ৪টি বিষয়ে মোট ৪০০
নম্বর | প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০% পেতে হবে |
|
✅ দুই ধরনের বৃত্তি: ট্যালেন্টপুল
ও সাধারণ | ৫০% ছাত্র ও ৫০% ছাত্রী |
|
✅ প্রতিটি উপজেলা/থানার শীর্ষ
মেধাবীরাই ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পাবে |
|
✅ ফলাফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে
পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে |
🌟
শেষ কথা
২০২৬ সালের এই নতুন নীতিমালা শিক্ষার্থীদের
মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করবে এবং শহর-গ্রাম সকল শিশুর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করবে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের এই নীতিমালা সম্পর্কে ভালোভাবে জানা থাকলে পরীক্ষার প্রস্তুতি
অনেক সহজ হয়ে যাবে।
মূল নীতিমালাটি পেতে প্রাথমিক শিক্ষা
অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd ভিজিট করুন।
আরও শিক্ষামূলক কন্টেন্টের জন্য ভিজিট করুন
👉 bdprimaryschools.blogspot.com

0 Comments